
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি অগ্রসর না হওয়ার জন্য রাশিয়াকে নয়, বরং ইউক্রেনকেই দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এই বক্তব্য ইউরোপীয় মিত্রদের অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ইউরোপীয় দেশগুলো বারবার দাবি করে আসছে, রাশিয়ার যুদ্ধ শেষ করার কোনো আগ্রহ নেই।
ট্রাম্প বলেন, প্রায় চার বছর ধরে চলা ইউক্রেনে আগ্রাসন শেষ করতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রস্তুত। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তুলনামূলকভাবে অনাগ্রহী। তাঁর ভাষায়, “আমি মনে করি পুতিন চুক্তি করতে প্রস্তুত, কিন্তু ইউক্রেন ততটা প্রস্তুত নয়।”
এই মন্তব্যে জেলেনস্কির প্রতি ট্রাম্পের নতুন করে হতাশার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সম্পর্ক কিছুটা উন্নত হয়েছে, তবুও দীর্ঘদিন ধরেই দুজনের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মিত্র দেশগুলোর তুলনায় পুতিনের বক্তব্যকে বেশি বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে তুলে ধরায় কিয়েভ, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
এর আগে ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা সতর্ক করেছেন—পুতিন এখনো ইউক্রেন ও সাবেক সোভিয়েত অঞ্চল নিয়ে নিজের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি। ফলে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি কঠিন হয়ে পড়েছে। যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা চললেও দোনবাস অঞ্চলসহ কিছু শর্ত নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
আগামী সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করবেন কি না—এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, তিনি সেখানে থাকলে অবশ্যই দেখা হবে। তবে জেলেনস্কি কেন আলোচনায় এগোচ্ছেন না—এ বিষয়ে তিনি সংক্ষেপে বলেন, “আমার মনে হয়, সে সেখানে পৌঁছাতে একটু কঠিন সময় পার করছে।”
উল্লেখ্য, জেলেনস্কি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী ইউক্রেন কোনো ভূখণ্ড ছাড় দেবে না।